নতুন যুগে বাংলাদেশ: সরকার গঠনে আমন্ত্রণ ভারতসহ ১৩ দেশকে
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 15 Feb, 2026
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ঢাকার দিকে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের মনোভাব এবং শপথ অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণের বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সতর্ক ও ইতিবাচক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এবং গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি বাংলাদেশের জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েছে। অতীতের ‘অস্বস্তি’ কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকারও আগ্রহী।
কূটনৈতিক প্রটোকল মেনে এবং প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের জেরে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার। মোদী ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দেবে।
অভিজ্ঞদের সঙ্গে তারুণ্যের মিশেল: কেমন হচ্ছে মন্ত্রিসভা?
দলীয় অন্দরমহলের খবর, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটতে যাচ্ছে।
হেভিওয়েটদের অবস্থান: স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন—দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
উপদেষ্টা ও টেকনোক্র্যাট: নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে। এছাড়া চিকিৎসক নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
তরুণ মুখ: মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচিত তরুণ ও মেধাবী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সরকার ও শরিক দল: প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের অংশ হিসেবে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে। শরিকদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী শাহাদাত হোসেন সেলিমও মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন।
সংখ্যালঘু ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব
ধর্মীয় ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া নারীদের মধ্যে মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের নাম বিবেচনায় রয়েছে।
বঙ্গভবনে শপথের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও বিদেশি অতিথি
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনের দরবার হল ও আশেপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় এক হাজার অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন ও জাপানের বিশেষ প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাজ্যের ‘হাউস অব লর্ডস’-এর সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত রুটকে ‘ভিভিআইপি জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামীর বাংলাদেশ
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে জনগণ বিএনপিকে রায় দিয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার হবে অংশগ্রহণমূলক এবং জনবান্ধব। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। নতুন মন্ত্রিসভা ও সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে।”
এখন সবার অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন বঙ্গভবনের আলো ঝলমলে দরবার হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

